ব্রেকিং নিউজ

মোহাম্মদ চুন্নু
প্রকাশ : Nov 3, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ভূমিকম্পে কাঁপল আফগানিস্তান: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০

ওশান নিউজ ডেস্ক : আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, উত্তর আফগানিস্তানে রোববার মধ্যরাতে আঘাত হানা ৬ দশমিক ৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩২০ জন আহত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, বালখ এবং সামাঙ্গান প্রদেশে প্রায় ৩২০ জন আহত এবং ২০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন। 

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার মধ্যরাত একটার দিকে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয় এবং এর গভীরতা ছিল ২৮ কিলোমিটার।

ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুসারে, স্থানীয় সময় রোববার মধ্যরাতের দিকে ২৮ কিলোমিটার (১৭ মাইল) গভীরতার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। 

এর কেন্দ্রস্থল ছিল মাজার-ই-শরিফ শহরের কাছে।

সংস্থাটি ভূমিকম্পের ঘটনায় সেখানে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি এবং সম্ভাব্য ব্যাপক বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্ক করেছে। মাজার-ই-শরিফে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ বাস করে। 

ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সাথে সাথে বহু মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। কারণ তারা তাদের ভবনগুলো ধ্বংসের আশংকা করছিলেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে।

বালখের তালিবান মুখপাত্র যে ভিডিও পোস্ট করেছেন, তাতে দেখা গেছে মাজার-ই-শরিফের ঐতিহাসিক ব্লু মসজিদ প্রাঙ্গণে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। 

এই ধর্মীয় কমপ্লেক্সে প্রথম শিয়া ইমামের সমাধি আছে বলে বিশ্বাস করা হয়। কাবুল পুলিশের তালিবান মুখপাত্র খালিদ জাদরান সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।

এর আগে গত অগাস্টে আফগানিস্তানের পর্বতময় পূর্বাঞ্চলে ছয় মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। সে সময় এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

মাটি ও কাঠ ব্যবহার করে ঘরবাড়ি বানানোর কারণে ওই অঞ্চলের গ্রামীণ এলাকায় ভূমিকম্প খুব প্রাণঘাতী হয়ে থাকে। ভূমিকম্পের সময় অনেকেই ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে। 

আফগানিস্তান খুবই ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকা, কারণ দেশটি কয়েকটি ভূতাত্ত্বিক ফল্ট লাইন বা ফাটল রেখার ওপর অবস্থিত, যেখানে ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল রয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কিত সমন্বয় অফিসের রিপোর্ট অনুযায়ী, আফগানিস্তানে গত এক দশকে সাত হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে ভূমিকম্প-জনিত কারণে। 

সাম্প্রতিক সময়ে, জানুয়ারিতে পরপর দুটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এছাড়া হিন্দু কুশ পর্বতে ২০০২ সালের মার্চে পরপর দুটি ভূমিকম্প হলে প্রায় ১১০০ মানুষ প্রাণ হারায়।

এছাড়া ১৯৯৮ সালের মে মাসে তাখান বাদাখাশান প্রদেশে ভূমিকম্পে চার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। 

তখন প্রায় একশ গ্রামের ১৬ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়। একই অঞ্চলে ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতেও প্রায় চার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।                    

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কণ্ঠ রোধ করতেই হাদিকে গুলি: সার

1

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত ফ্

2

আসন্ন নির্বাচনে কোনো জোট করবে না জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

3

ধানমন্ডি ৩২ এ টাঙানো হলো শরীফ ওসমান হাদি ও ভাসানীর ছবি

4

গুম প্রতিরোধে শুধু আইন নয়, প্রয়োজন গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কা

5

গুলশানে বিএনপি কার্যালয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করলেন তিন উপদেষ্টা

6

শহীদ হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান ইনকিলাব

7

বায়োস্কোপ স্টার অ্যাওয়ার্ড পেলেন আসিকুর রহমান নাদিম

8

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের দ্বিতীয় দিনে

9

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে ফের তলব, নিরাপত্তা ও উসকানিমূলক বক

10

অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত করেননি বেগম খালেদা জিয়া: ড. আব্দু

11

ফিলিস্তিনে দুই বছর ধরে ইসরায়েলি আগ্রাসন: নিহত এক লাখের বেশি

12

বিএনপি সরকার এলে দেশের উন্নয়ন গতি দ্বিগুণ নয়, শতগুণ : সালাহ

13

আনসার সদস্যরা নির্বাচনী নিরাপত্তার প্রথম রক্ষাকবচ: মহাপরিচাল

14

প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নে ১৭ সদস্যের কমিট

15

রয়্যাল ব্লু শাড়িতে ঝলমলে গ্ল্যামারে নজর কাড়লেন নুসরাত ফারিয়া

16

ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ঢাকায় হলিউড তারকা অরল্যান্ডো ব্

17

শাহজালাল বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ড তদন্তে ঢাকায় তুরস্কের বিশেষ

18

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শ আজ ও আমাদের অনুপ্রেরণা: তারেক রহমান

19

কোরিয়াগামী ২১ হাজার ভুক্তভোগীর ইপিএস সংস্কারসহ ৮ দফা দাবি

20