ব্রেকিং নিউজ

মোহাম্মদ চুন্নু
প্রকাশ : Dec 16, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

তরুণ প্রজন্ম ভিনদেশিদের দাদাগিরি মেনে নেবে না: মুজিবুর রহমান

ওশান নিউজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম ভিনদেশিদের দাদাগিরি মেনে নেয়নি, নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। 

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনতাই করে নিজেদের স্বাধীনতা দাবি করে তারা আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে না, বিশ্বাস করে না। ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আজ ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শহীদ ও আহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

মহানগর দক্ষিণ জামায়াত কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। 

তিনি বলেন, দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে বাংলাদেশের জনগণ। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের দিনে পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের কাছে আত্মসমর্পণ না করে ভারতীয় বাহিনীর কাছে কেন আত্মসমর্পণ করেছিল? কেন সেদিন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীকে সেখানে রাখা হয়নি? এর একমাত্র কারণ ভারত চায়নি এবং চায় না বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। 

তারা আমাদের স্বাধীনতা ছিনতাই করে নিয়ে এদেশের সম্পদ লুটপাট করে নিয়েছে। তারা চেয়েছে এবং চায় তাদের সেবাদাস সরকার দ্বারা বাংলাদেশ পরিচালিত হোক। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম ভিনদেশিদের দাদাগিরি মেনে নেয়নি, নেবে না।

যে কারণে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে কেবল আওয়ামী লীগ ক্ষমতাই হারায়নি বরং আধিপত্যবাদ পরাজিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে লুট হওয়া আমাদের স্বাধীনতা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা ফিরিয়ে এনেছে। 

এজন্য পরাজিত আধিপত্যবাদের সহযোগিতায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ জুলাই যোদ্ধাদের টার্গেট করে হত্যার ছক কষছে। এরই অংশ হিসেবে ওসমান হাদীর ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে, বলেন তিনি। 

ওসমান হাদিকে গুলি করার অর্থ প্রতিটি জুলাইযোদ্ধার মাথায় গুলি করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপ্লবী তরুণেরা পরাজিত শক্তির কাছে মাথা নোয়াবে না। আধিপত্যবাদের দোসর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কবর রচনা করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমেই জাতি স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ উপভোগ করবে।   

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ভারত আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেছিল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। তারা বন্ধু বেশে আমাদেরকে শোষণ করেছে। 

আমাদের ভূ-খণ্ডের সব সম্পদ এমনকি রেললাইনের নাট-বল্টু তারা লুট করে নিয়েছিল। যেটি মেজর জলিল নিজের লেখা বইতে উল্লেখ করে গেছেন।   তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের চেয়েও বেশি মাথা খারাপ হয়ে গেছে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের। 

এতো উন্নয়ন করলে পালানোর কারণ কী প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আসলে কোনো উন্নয়ন নয় বরং দুর্নীতি আর লুটপাটের মহোৎসব চলছিল বিগত ১৫ বছর। পালিয়ে যাওয়া নেতৃত্ব বা দল দেশপ্রেমিক নয় বরং যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছে তারাই দেশপ্রেমিক।

সভাপতির বক্তব্যে আব্দুস সবুর ফকির বলেন, প্রতি বছরই বিজয় দিবসের আলোচনা হয়, কিন্তু আলোচনায় উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব কেউ দিচ্ছে না। যার কারণে তরুণ প্রজন্ম ইতিহাস জানতে পারছে না।

তিনি বলেন, জীবন দিয়েছে এদেশের দামাল ছেলেরা, ইজ্জত দিয়েছেন মা-বোনেরা, মানুষ হারিয়েছে ঘরবাড়ি। কিন্তু পাকিস্তান বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিক নায়ক জেনারেল ওসমানীর কাছে আত্মসমর্পণ না করে কেন ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল? সেটি ছিল ভারতীয়দের চক্রান্ত। 

আমাদেরকে বাদ দিয়ে ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে আমাদের বিজয় আমাদের স্বাধীনতা ছিনতাই করা হয়েছে। ভারত আমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধকালীন সহযোগিতা করেছে ঠিকই, তবে নিজেদের স্বার্থে, নিজেদের প্রয়োজনে। আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা তারা ছিনতাই করে নিয়ে আমাদেরকে তাদের কাছে জিম্মি করে রেখেছিল। 

জাতিকে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করতে এদেশের তরুণ প্রজন্ম চব্বিশের বিপ্লব সংগঠিত করেছে। যাদের নেতৃত্বে আমরা আমাদের ছিনতাই হওয়া স্বাধীনতা ফিরিয়ে পেয়েছি তাদের এখন টার্গেট করে হত্যার মিশনে নেমেছে পরাজিত দুই শক্তি। 

বিজয়ের এই দিনে আমাদেরকে দৃঢ়ভাবে শপথ নিতে কোনো অপশক্তির কাছে আমরা হার মানবো না। আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবোই, করবো। 

জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে এবং মহানগর অফিস সম্পাদক কামরুল আহসান হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও মুহাম্মদ শামছুর রহমান, মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।     

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

থাইল্যান্ডে মিস ইউনিভার্স ২০২৫: মুকুটে মেক্সিকোর ফাতিমা বশ

1

অতীশ দীপঙ্করের নামে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠ

2

খালেদা জিয়াকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ঘোষণা, নিরাপত্তা দায

3

৩০ বছর পরও জীবন্ত: লন্ডনে আইকনিক দৃশ্যের ব্রোঞ্জ ভাস্কর্য উন

4

এশিয়ান আর্চারির নতুন সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন চপল

5

ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ভূতের সাজে হাজির শাবনূর, মুগ্ধ ভক্তরা

6

শাড়িতে বাঙালি সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি রুনা খান

7

লেখনীশক্তির স্বীকৃতিতে ডিআরইউ’র সম্মাননা পেলেন ২৯ জন

8

রাজশাহীতে ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাও লং মার্চ পুলিশের বাধায় পণ্ড

9

হাদির জনপ্রিয়তাই সহ্য হয়নি, ষড়যন্ত্র করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে :

10

হামলার তদন্তে নিষ্ক্রিয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চায় ইনক

11

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের চোখে চীন

12

ইতালি সফর সম্পন্ন করে দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা

13

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ, নতুন করে ভর্তি ৫০৬ রোগী

14

পাঁচ বছরের পরে মিয়ানমারে শুরু হলো জাতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন

15

হাদি কোথাও হারাবে না, বাংলাদেশ তার কথা ভুলবে না : প্রধান উপদ

16

খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন, দেশে মিলছে সর্বোচ্চ চিকিৎসা:

17

নভেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান: সালাহউদ্দিন আহমদ

18

আগামীর সংসদ হবে কুরআনের সংসদ, সবকিছু চলবে কুরআনের আইনে: মুজি

19

দাহ্য পদার্থের কারণে আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে: বেবিচক চ

20